কাল ১৯শে আগস্ট কোলকাতা লীগের খেলায় নিজেদের ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের লড়াই ছিল অফিস দলগুলির মধ্যে সবথেকে শক্তিশালি দল রহিম নবির পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে। তবে পিয়ারলসকে দলকে শুধু হারিয়ে নয় ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে লীগে নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ইস্টবেঙ্গল দল। পড়ে নিন ম্যাচের ম্যাচ রিপোর্ট……..

এইবার কোলকাতা লীগের তিন ম্যাচে দুটো হাটট্রিক দিয়ে ৩ এ ৩ করলো ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। সুহেরের পর এবার সুরাব৷ কলকাতা লিগের প্রথম ম্যাচে তিন গোল করে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করতে ইস্টবেঙ্গলকে সাহায্য করেছিলেন ভিন রাজ্যের সুহের৷ প্রথম ম্যাচের পরে তৃতীয় ম্যাচে খালিদের মুখে এবার হাসি ফোটালেন বঙ্গসন্তান সুরাবউদ্দিন মল্লিক৷ বজবজের সুরাবের হাত ধরেই এই মরশুমের প্রথম পাঁচ গোল দিল ইস্টবেঙ্গল৷ গত দুই ম্যাচে ছয় গোল দিলেও দলের খেলায় মন ভরেনি সমর্থকদের, তবে সেই ঘাটতি তৃতীয় ম্যাচে সুদে আসলে পুষিয়ে নিলের সমর্থকেরা।

Also Read: দশজনের রেলকে বেলাইন করে টেবিল টপার মোহনবাগান!

প্রথম দুই ম্যাচের দলগুলির তুলনায় পিয়ারলেস ছিল অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ তার সাথে পিয়ারলেস দলে ছিলেন হার না মানা ফুটবলার রহিম নবি। বৃষ্টিস্নাত ময়দানে প্রথমার্ধের খেলায় লড়াই জমেছিল হাড্ডাহাড্ডি! এই সময় পিয়ারলেস কিংবা ইস্টবেঙ্গল কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে দেয়নি। ম্যাচের শুরু থেকে ইস্টবেঙ্গল ভালো কয়েকটা আক্রমন করলেও গোলমুখ খুলতে পারেনি! অবশেষে ম্যাচের ২৯ মিনিটে আল আমনার করা সেন্টার থেকে মাথা ছুইয়ে ইস্টবেঙ্গলকে গোলটি এনে দেন উইলস প্লাজা, যিনি গত দুই ম্যাচে গোল মিস করে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চক্ষুশুল হয়ে উঠেছিলেন। প্রথমার্ধে গোল হজম করলেও প্রতিআক্রমণে ঝড় তুলে লাল-হলুদের ডিফেন্সকে একসময় চাপে রাখে নীল – সাদা জার্সিধারী পিয়ারলেস৷

Also Read: Resilient India make it 9 wins in a row with triumph over Mauritius

পিছিয় পড়েও ৩৫ মিনিটে রহিম নবির করা গোলে সমতায় ফেরে তারা৷ কর্ণার থেকে আনমার্ক রহিম লাল-হলুদ গোল লক্ষ করে ভাসিয়ে দেন একটা বল, ডিফেন্সের ভুল বোঝাবুঝির ফলে গোল হজম করতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে৷ জটলার মধ্যে নবির হেড ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইস্টবেঙ্গলের প্রকাশ সরকারের গায়ে লেগে বল জালে ঢুকে যায়৷ এদিনের ম্যাচে বল পায়ে পিয়ারলেসের জার্সিতে নজর কাড়লেন নবি৷ দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় প্রথম একাদশে সুযোগ না পেলেও পরিবর্তিত হিসেবে মাঠে নেমে বাজিমাত সুরাবউদ্দিনের৷ তাঁর ঝড়ের সামনে পড়েই ছন্দ হারিয়ে একেবারে আত্মসমর্পণ করে পিয়ারলেস৷ একটা নয় দুটো নয় তিন তিনটে গোল করেন বজবজের এই ছেলে, যার মধ্যে একটি গোল শুন্যে শরীর ছুড়ে দিয়ে অসামান্য ব্যাকভলিতে করা!

দ্বিতীয় অর্ধে ‘সুপার সাব’দের দিয়েই বাজিমাত করেন আই লীগ জয়ী কোচ খালিদ। ময়দানি ইনিংসে প্রথম হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের সেরাও হলেন সুরাব৷ এদিন লাল-হলুদের হয়ে একটি গোল পেয়েছেন গ্যাব্রিয়েল ফার্নান্ডেজ৷ ম্যাচের প্রথমার্ধে যতটাই উজ্বল ছিল পিয়ারলেস ডিফেন্স, ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অপেক্ষাকৃত শুকনো মাঠে ততটাই নিস্প্রভ হয়ে পরে তারা, ইস্টবেঙ্গল আক্রমনের কাছে করে অসহায় আত্মসপমর্পন৷ এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ১১ গোল দিয়ে ৬ পয়েন্টের সাথে টেবিল টপার হয়ে যায় জামিলের দল।

তবে আজকের ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের সবথেকে বড় পাওনা ৫ গোল নয়, ফিজিক্যাল ট্রেনার গার্সিয়ার ইস্টবেঙ্গল দলের সাথে অন্তরঙ্গতা! লালহলুদ শিবিরে পা রেখে এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি যেভাবে ফুটবলারদের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন তা এক কথায় অসাধারণ৷

প্রতিটা গোলের পরে মোহনবাগানের এই প্রাক্তন ফিজিও কে দেখা গেল পুরো খেলোয়াড়দের মতোই মাঠে ঢুকে স্কোরারদের নিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করতে, তিনি যে বুঝিয়ে দিলেন আমিও তো দলের একজন খেলোয়াড়ই! ইস্টবেঙ্গলের পরবর্তী ম্যাচ ২৩শে আগস্ট সার্দান সমিতির বিরুদ্ধে নিজেদের ঘরের মাঠে!