কোলকাতা লীগের মাঝপথে মোহনবাগান পেল স্পনসর আর হারাল ছন্দ!
(Courtesy : Mohun Bagan Fans)
বুধবার কোলকাতা প্রিমিয়ার লীগে মোহনবাগান মাঠে “মেরিনার্স” দের মুখোমুখি হয়েছিল প্রথমবারের জন্যে কোলকাতা লীগে সুযোগ পাওয়া নিউ ব্যারাকপুরের রেনবো এসসি। টানা ৫ ম্যাচ জেতার পরে অবশেষে এই ম্যাচে তরুন রেনবোর কাছে আটকে গেল শংকরলাল চক্রবর্তীর দল, খেলার ফলাফল ১-১! পড়ে নিন এই ম্যাচের ম্যাচ রিপোর্ট…
লীগের ষষ্ঠ রাউন্ড কি তাহলে অঘটনের? আগের দিনই মিনি ডার্বির রিহার্সালে দুর্বল কাস্টমসের কাছে আটকে গেছে মহামেডান স্পোর্টিং আর কাল তরুন রেনবোর কাছে আটকে গেলো লীগের সবথেকে শক্তিশালী দল মোহনবাগান। কালকের পরে ৬ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ত নিয়ে লীগ টেবিলের শীর্ষে থাকলেও ১ ম্যাচ কম খেলে মাত্র ১ পয়েন্টেরই ব্যবধানে পিছনে রয়েছে ইস্টবেঙ্গল দল, আজ যাদের খেলা অনামী পাঠচক্রের বিরুদ্ধে। কালকের ম্যাচে রেনবোর হয়ে গোল সুরজের। অপরদিকে, বাগানের হয়ে গোলটি করেন ক্রোমা।
ময়দানী ফুটবলে একটি শৈলী বহু বছর ধরেই চলে আসছে তা হলো বড় দলের বিরুদ্ধে কোনওক্রমে একটি গোল করেই চিরাচরিত ডিফেন্সের পথে চলে যায় ছোট দলগুলি। কালকের ম্যাচেও তার অন্যথা হলো না, ম্যাচের ৩০ মিনিটে বাঁদিক থেকে সুজয় মণ্ডলের সেন্টার থেকে কিংশুক দেবনাথের মাথা টপকে হেডে গোল করে রেনবোকে এগিয়ে দেন সুরজ মাহাতো। আর এই গোলের পরেই নিজেদের ডিফেন্স সংঘবদ্ধ করে তুলতে দেখা গেল রেনবো এসসিকে। যদিও এই গোল করার আগে ম্যাচের ২০ মিনিটেই দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেন মোহনবাগানের কামোর ভাই রেনবোর বার্নার্ড।
গোল খাওয়ার সাথে সাথেই পালটা চাপ বাড়ায় সবুজ-মেরুন খেলোয়াড়রা। বেশ কয়েকটা ভালো মুভ তৈরী করেন সবুজ মেরুন জার্সিধারীরা কিন্তু যাবতীয় আক্রমণ রেনবো রক্ষণে এসে বাধা পেয়ে যায়। এরই মধ্যে গুটিয়ে থাকেনি রেনবো পাল্টা আক্রমনে গেছিল তারাও কিন্তু ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি ফলে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হয় ১-০ ফলাফলেই।
ALSO READ:
-
My priority is to make my nation proud in the FIFA U-17 World Cup: Boris Singh
-
FC Goa edge past Viva Chennai in AWES Cup
-
Mohun Bagan finally gets sponsorship after 3 years!
-
Eugeneson Lyngdoh has waned and Balwant Singh has risen!
সমতা ফেরানোর জন্য দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে মোহনবাগান, কামো-ক্রোমা জুটিতেই ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় নেয়নি মেরিনার্সরা৷ ৬০ মিনিটে কামোর শট বিপক্ষ গোলকিপার অঙ্কুর দাসের হাতে লেগে রিফ্লেক্ট করলেও ফিরতি বলে জালে বল রাখে ক্রোমা৷ সেই কামো-ক্রোমা জুটির পায়েই ম্যাচের ফলাদফল ১-১ করে মোহনবাগান ক্লাব ৷ বাগান সমর্থকদের জন্য এই একটি মাত্র নজরকাড়া শট ছাড়া আর কিছুই ছিল না ম্যাচের বাকি সময়ে ৷ এতদিন ধরে যেই ছন্দ ছিল দলের খেলায় হঠাতই তা উধাও হয়ে বাকিটা ‘ফ্লপ শো’ ছিল আজ শংকরলাল ব্রিগেডের৷
দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার গোলের সুযোগ পেয়ে ফিনিস করতে ব্যর্থ নরহরি শ্রেষ্টা ৭২ মিনিটের সহজ সুযোগ নষ্ট করেন নরহরি৷ ৭৪ মিনিটে বাগান গোলকিপার শিবিনরাজকে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ রেনবোর সুমিত। দ্বিতীয়ার্ধে রেনবোর হয়ে সৌরভ রায় দু’টি সহজ সুযোগ না-হারালে মোহনবাগানের ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরাও ছিল খুব মুশকিল।
[KH_RELATED_NEWS title="Related News"][/KH_RELATED_NEWS]ম্যাচের পরে আক্ষেপ ঝড়ে পরে রেনবো কোচ তড়িৎ বাবুর গলায় তার মতে এক পয়েন্ট নয়, আজ তাদের ৩ পয়েন্টই মাঠ ছাড়া উচিত ছিল। কামো-ক্রোমা জুটিকে আটকানোর প্রসঙ্গে রেনবো কোচ বলেন,‘হোমওয়ার্কেই ফল মিলেছে৷ দলের বেশিরভাগ ফুটবলারদের বয়স ২২-২৩৷ তরুণ ফুটবলাররা গতিতেই ফারাক গড়ে দিল৷’ রেনবোর ডিফেন্স এর প্রসঙ্গে রেনবো কোচের জবাব,‘জোনাল মার্কিংয়ের ফল পেয়েছি৷ আমরা ক্রোমা-কামোকে প্রথম থেকেই আটকাতে সফল৷ সেই দাওয়াতেই পয়েন্ট ঘরে তুললাম৷’
অন্যদিকে ম্যাচ শেষে আশাহত হয়ে পড়েননি বাগান কোচ শংকর, তিনি বললেন ‘গোল খেয়েই ম্যাচে ফিরে আসাটা পজিটিভ৷ একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট না-করলে ম্যাচ খোয়াতে হত না।“ দলকে দোষ না দিয়ে শংকরবাবু সাফ জানান, ‘আক্রমণাত্মক খেলতে গেলে রক্ষণে সমস্যায় পড়তে পারে, এখান থেকেও কামব্যাক করা সম্ভব৷’
