News Article

East Bengal Ultras

শেষ মূহূর্তের পেনাল্টিতে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত মুখরক্ষা ইস্টবেঙ্গলের।

Written by: Raktim Banik

Advertisement

কাল ইস্টবেঙ্গল মাঠে কোলকাতা লীগের খেলায় খালিদ জামিলের ইস্টবেঙ্গলের মূখোমুখি হয়েছিল পাঠচক্র দলের ! এই ম্যাচে পাঠচক্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে ২০১৭ এর কোলকাতা লীগ টেবিলের প্রথম স্থানে নিজেদের যায়গা ধরে রাখলো লাল-হুলুদ বাহিনী! পড়ে নিন এই ম্যাচের ম্যাচ রিপোর্ট……

না ব্যাপারটা ষষ্ঠ রাউন্ডের ধারা মেনে হতে হতেও হলো না, এই রাউন্ডে মহামেডান, মোহনবাগানের পর এবার কী কলকাতা লিগে ৮৬ মিনিট পর্যন্ত আটকে ছিল ইস্টবেঙ্গল? বৃহস্পতিবার লাল-হলুদ জনতার মনে উঁকি দিচ্ছিল তাহলে কি পাঠচক্রের কাছে আটকে গেলাম আমরা?  খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট বাকি, তখনও খেলার ফল ছিল ১-১। শেষ পর্যন্ত পেনাল্টি থেকে আল আমনার করা গোলে স্বস্তির জয় পেল খালিদ জামিলের ছেলেরা। পাঠচক্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থান বজায় রাখল ইস্টবেঙ্গল।

এদিন খেলার শুরু থেকেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বুধবার রেনবোর বিরুদ্ধে আটকে গিয়েছিল মোহনবাগান আর এর আগের ম্যাচেই পয়েন্ট নস্ট করেছিল মহামেডান স্পোর্টিং, তাই হয়তো এই ম্যাচে কিছুটা মানসিক স্বস্তি নিয়েই নেমেছিল লাল হলুদ জার্সীধারীরা। তবে পাঠচক্রও ছেড়ে দেওয়ার দল নয়, নিজেদের প্রথম ম্যাচেই মহামেডান স্পোর্টিং এর মতো বড় দলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে দিয়ে এবারের কোলকাতা লীগ অভিযান শুরু করেছিল তারা, সেই ফর্মই এইদিন দেখাতে শুরু করে এই দল।   


Related




আজ ম্যাচের ৫ মিনিটে ব্রেন্ডনের কর্নারে তন্ময় কুন্ডুর হেড বারে লেগে প্রতিহত না হলে এগিয়ে যেতেই পারতো ইস্টবেঙ্গল দল। এরপর নিজেদের রক্ষন সংঘবদ্ধ করে তোলে সাদা জার্সিধারীরা, আর সুযোগ দেয়নি ইস্টবেঙ্গলকে। এরপর দুদলের জমাটি রক্ষনের জন্যেই মূলত খেলা চলতে থাকে মাঝমাঠেই, দুই দলই চেস্টা করে মাঝমাঠের দখল নেওয়ার।

এরপর ম্যাচের ৩৭ মিনিটে পাঠচক্রের কাছে সুযোগ চলে আসে ম্যাচে লিড নেওয়ার, কিন্তু পাঠচক্রের দিনেশ ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার লুই ব্যারেটো এর বিরুদ্ধে ওয়ান টু ওয়ান বল পেলেও মিস করেন সহজ সুযোগটি। যদিও দিনেশ না পারলেও তার ঠিক ৪ মিনিট বাদেই গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জগন্নাথ ওরাও। পাঠচক্রের একটি আক্রমন ডানদিক থেকে সানডে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সামনে জগন্নাথকে পাস দিলে সেই বল গোলে ঠেলতে ভুল করেননি জগন্নাথ। 

যদিও বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি পাঠচক্রের এই লীড। গোল খাওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যেই প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে গোল শোধ দেয় ইস্টবেঙ্গল দল, যদিও এই গোলের পিছনে ইস্টবেঙ্গল দলের অবদান যতটা আছে ঠিক ততটাই আছে পাঠচক্র দলের ব্যর্থতা। অতিরিক্ত সময়ের দুই মিনিটে ব্রেন্ডনকে লক্ষ করে আল আমনার করা সেন্তার তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন পাঠচক্রের গোলকিপার শুভম, আর শুভমের এই ভুলকে কাজে লাগে প্রায় শুন্য ডিগ্রী থেকে বা পায়ের বাক খাওয়ানো শটে বল জালে জড়ীয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলের ব্রেন্ডন। ১-১ ফলাফলে প্রথমার্ধের খেলার পরিসমাপ্তি ঘটে।

দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে খেলা চলতে থাকে। ফরোয়ার্ডদের সহজ সুযোগ নষ্ট এবং পাঠচক্রের গোলকিপার শুভমের দুরন্ত ফর্মের জন্য গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় ইস্টবেঙ্গল।  জটলা থেকে ইস্টবেঙ্গলের সুরাবুদ্দিন, জবিরা একের পর এক আক্রমণ হানলেও দুরন্ত রিফ্লেক্সে শুভম তা প্রতিহত করেন৷ প্রথমার্ধের একটা বিশ্রী ভুলে গোল হজম করতে হলেও দ্বিতীয়ার্ধে গোল এবং ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে বাঁধা হয়ে দাড়ান পাঠচক্র গোল রক্ষক শুভম। যদিও এর মাঝে পাঠচক্র বেশ কয়েকটা ভালো আক্রমন তৈরি করলেও ইস্টবেঙ্গল এর রক্ষনভাগেই আটকে যায় সব কটাই।

ম্যাচের বয়েস তখন ৮৫ মিনিট, খেলার ফলাফল ১-১। টেনশন বাড়ছে ফ্যানেদের মনে ঠিক এই সময় ইস্টবেঙ্গলের ত্রাতার ভূমিকায় দেখা গেলো সিরিয়ান আল আমনাকে।  ম্যাচের ৮৬ মিনিটে বক্সের মধ্যে আল আমনাকে পাঠচক্রের জুয়েল পিছন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিলে পেনাল্টি দিতে কোনও ভুল করেননি রেফারি তন্ময় ধর। সেই পেনাল্টি থেকেই খেলার ফলাফল ২-১ করেন আল আমনা, সমর্থক এবং কোচের চেহারায় এনে দেন স্বস্তি।

এরপর ৫ মিনিটের এক্সট্রা টাইম খেলা হলেও দুই দলই আর বিশেষ কিছু চেস্টা করেনি। ২-১ ফলাফলেই শেষ বাঁশী বাজান কল্যানীর রেফারি। এই জয়ের ফলে টানা ৬ ম্যাচ জয়লাভ করে লীগ টেবিলের শীর্ষস্থানেই থাকলো ইস্টবেঙ্গল দল, আরো একধাপ এগিয়ে গেলো টানা অস্টম কোলকাতা লীগের দিকে।

Published: Fri Sep 08, 2017 11:17 AM IST

Advertisement

Welcome to Khel Now!