২০১৭ সালের কোলকাতা লীগে আজ নিজেদের ঘরের মাঠে রেকর্ড টানা ৭ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল দলের মুখোমুখি হয়েছিল মাত্র তিন দিনের অনূশীলনে কোলকাতা লীগে প্রতিনিধিত্ব করতে চলা সাউদার্ন সমিতি। এই ম্যাচে রালতে, আমনা এবং সামাদ আলি মল্লিক এর করা গোলে মরশুমের প্রথম ক্লিনশিট সহ ৩-০ গোলে সাউদার্ন কে হারিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল দল। পড়ে নিন ম্যাচের ম্যাচ রিপোর্ট.

কালকের দিনটা ছিল বুধবার, সপ্তাহের শেষে কোনও ছুটির দিন নয় আর তার উপরে ম্যাচ ছিল ঠিক দুপুর ২.৪৫ ঘটিকায়। এর সাথে গোদের উপর বিষফোড়ার মতো যুক্ত হয়েছিল সকাল থেকে কোলকাতা সহ পুরো দক্ষিনবঙ্গেই অঝোড় বৃষ্টি। ফলাফল? মাঠের কর্নার ফ্লাগের পাশে জমা জল এবং গ্যালারীর ভিতর ও বাইরে হাটুজল। কিন্তু কাজের দিন, দুপুরে খেলা এবং প্রকৃতি এই তিনটে জিনিসকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের মাঠ ভড়িয়ে তুললেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা। কাদা মারিয়ে, গ্যালারীর বাইরের হাটুজল পেড়িয়ে তারা স্বতস্ফুর্ত উপিস্থিত থেকেছে ইস্টবেঙ্গল মাঠে। হয়তো ম্যাচ শুরুর সময়ে মাঠে দর্শক ছিল কমই তবে ম্যাচের সময় যতটাই গড়িয়েছে দর্শকও বেড়েছে ততগুন করে।

Also Read: ৫ গোলে পাঠচক্র বধ করলো মোহনবাগান, কামো একাই ৪!

কিন্তু এত ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে, জল টপকে এসে সমর্থকেরা নিজের দলের জয় দেখতে পেলেও পেলেন কি মানসিক শান্তি? উত্তরটা বোধহয় না। বরং তারা প্লাজার সুযোগ নস্ট, ডিফেন্সের ফাঁকফোকর, লুই ব্যারেটোর সাধারন মানের কিপিং সহ একরাশ হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়লেন। অন্তত ইস্টবেঙ্গলের খেলা তো তাই বলছে। দিনের শেষে সমর্থক এবং খালিদ জামিলের প্রাপ্তি বলতে আল আমনার অসাধারন পারফরমেন্স এবং মিচেল ডিওন এর ঠান্ডা স্নায়ু আর সাথে বজবজের ছেলে সুরাবুদ্দিনের পরিবর্ত খেলোয়াড় হিসেবে নেমে কঠোর পরিশ্রম।

Match Highlights: East Bengal 3-0 Southern Samity

আজ ম্যাচের শুরু থেকেই গোল করার মরিয়া চেস্টা শুরু করে লাল-হলুদ ব্রিগেড, খালিদ জামিলের ছেলেরা মাঝমাঠে নিজেদের মধ্যে পাস খেলে বারবার আক্রমণে যায় সার্দান গোলপোস্টকে লক্ষ করে। ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটের মধ্যেই গল করলে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন আর লালতে, সার্দান ডিফেন্ডারের ভুলে বলটি তার পায়ে আসলে একজন ডিফেন্ডারকে সাথে নিয়ে গোলকিপার এর ডান দিক দিয়ে সুক্ষ টাচে বলটি জালে জড়াতে কোনও ভুল করেননি তিনি। ফলাফল ১-০ হয়ে গেলে আক্রমণের ঝাঝ আরো বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল দল।

এইসময় মাঝমাঠ থেকে তৈরী হওয়া প্রত্যেকটি আক্রমনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আইজল জার্সিতে সদ্য আই লীগ জিতে ইস্টবেঙ্গলে আসা সিরিয়ান ফুটবলার আল আমনা। তবে ওই আক্রমন তৈরী হওয়া পর্যন্তই, আক্রমন যত এগিয়েছে সার্দান বক্সের দিকে ততটাই ধার হারাতে থেকেছে। সাথে রয়েছে প্লাজা সহ ইস্টবেঙ্গল দলের জঘন্য ফিনিশিংয়ে একের পর এক গোল মিস। গোলের সুযোগ আসলেও অন্তত ২-৩টে নিশ্চিত গোল প্রথমার্ধেই মাঠে ফেলে আসেন প্লাজা-সুহেররা। এরপর প্রথমার্ধের খেলা শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে সার্দানের কোকো সাকিবোর ব্যাকভলি লুইস ব্যারেটোকে পরাস্ত করে ইস্টবেঙ্গল জালে আশ্র্য় নিলেও সহকারী রেফারি পতাকে উঠিয়ে অফসাইডের জন্যে গোলটি বাতিল করে দেন।

Also Read: দুই বাঙালীর কাঁধে ভর করে সার্দানকে ৩ গোল দিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল সাদা-কালো ব্রিগেড!

এরপর দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হলে প্রথম মিনিটেই সাউর্দানের কোকোর শট কর্নারের বিনিময়ে বাচিয়ে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোয়ান গোলরক্ষক লুই ব্যারেটো। এইসময় ইস্টবেঙ্গল রক্ষনের ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে পরপর বেশ কয়েকটা ভাল আক্রমন তৈরী করে হেমন্ত ডোরার দল যদিও সাউদার্নের নিম্নমানের ফিনিশিংয়ের জন্যে তা খেলার ফলাফলে কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবে প্রথমার্ধের তুলনায় দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা সফল হয় ইস্টবেঙ্গলের উইং প্লে, দুই উইং দিয়ে মূহুর্মুহ আক্রমন চালাতে থাকেন লাল হলুদ জার্সির খেলোয়াড়েরা ।

ম্যাচের ৫৭ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের ডান প্রান্ত থেকে সামাদ আলি মল্লিক গোলের উদ্দেশ্যে একটি বল রাখলে সেটির ফ্লাইট মিস করেন সাউদার্ন গোলকিপার ভাস্কর এবং বলটি সরাসরি জড়িয়ে যায় জালে। ফলাফল ২-০ হওয়ার ৩ মিনিট বাদে ৬০ মিনিটে ব্রান্ডনকে তুলে আগের ম্যাচের হ্যাট্রিক হিরো সুরাবুদ্দিনকে নামান কোচ খালিদ জামিল। এরপর ঝিমিয়ে পরে দুই দলের খেলা, মাঝমাঠেই বেশি আটকে থাকে বল।

এরপর ৭৪ মিনিটে উইলস প্লাজার মারা একটি শট প্রথম বারে লেগে প্রতিহিত হয়ে আল আমনার সামনে গিয়ে পড়লে সেই বলটি ঠান্ডা মাথায় জালে জড়িয়ে সিএফএল-২০১৭ এর পঞ্চাশতম গোলটি করেন আজকের ম্যান অফ দ্যি ম্যাচ আল আমনা। ম্যাচের বাকি সময়টুকু ছিল শুধু উইলস প্লাজা এবং কোকো সাকিবো গোল নস্টের প্রদর্শনী। এই দুই বিদেশী মিলে মিস করেন অন্তত গোটা চারেক নিশ্চিত গোল, ফলে ৩-০ তে শেষ হয় ইস্টবেঙ্গল বনাম সাউদার্ন সমিতির এই ম্যাচ।

Also Read: শক্তিশালী পিয়ারলেসকে ৫ গোলের মালা পড়িয়ে আবার লী শীর্ষে ইস্টবেঙ্গল!

৪ ম্যাচে ৪টে জয়ের সাথে ১২ পয়েন্ট নিয়ে লীগ শীর্ষে দল, তাও কি চিন্তামুক্ত হতে পারছেন কোচ খালিদ জামিল বা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকেরা? উত্তরটা না।কারন তাদের ভাবাচ্ছে রক্ষনের ফাক গুলো, তাদের ভাবাচ্ছে প্লাজার মিসগুলি। অনেককেই তো এও বলতে শোনা গেলো “ পুরো ম্যাচে গোলগুলো ছাড়া কিই বা পেলাম?” আবার কেউ কেউ বলছে “সাউদার্ন দুর্বল দল তাই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি! অন্য দল হলে কি ছেড়ে দিত?” । সত্যিই তো তারা ভুল কিছূ তো বলেননি, আবু বক্কর বা কোক সাকিবোর যায়গাইয় অন্য কেউ থাকলে বদলাতেই পারতো খেলার ফলাফল।