বুধবার নিজেদের ঘরের মাঠে দুর্বল কাস্টমস ক্লাবকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়ে কোলকাতা লীগে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক তাদের ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ডিফেন্ডার মিচেল!…

ভারতে আসার পরেই ক্লাবের মিডিয়া রুমে বসে প্লাজার দেশয়ালী ভাই ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ডিফেন্ডার মিচেল জানিয়েছিলেন শুধু রক্ষনে দলকে সাহায্য করা নয় দলের দরকারে গিয়ে তিনি আক্রমন ভাগে গিয়ে গোল করে দলকে জেতাতেও চান। আর সেই কথা যে তিনি এত তাড়াতাড়ি রাখতে পারবেন সেটা বোধহয় নিজেই জানতেন না মিচেল, লাল হলুদ জার্সিতে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই ২টো গোল করে তিনি দলকে এনে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট!

ম্যাচের ফলাফল ২-০ দেখে যদি আপনি ভাবেন কাস্টমসকে হয়তো খুব সহজেই নিজেদের ঘরের মাঠে পরাস্ত করেছে ইস্টবেঙ্গল তাহলে আপনি একদমই ভুল, বরং বলতে হবে দিশাহীন ফুটবল খেললে কি হবে ৭৪ মিনিট পর্যন্ত কিন্তু ইস্টবেঙ্গলকে আটকে রাখতে সক্ষম ছিল তারা! অর্নব মন্ডল এবং মহম্মদ রফিক জাতীয় ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার জন্যে তাদের না পাওয়ায় আজ উইনিং কম্বিনেশন ভাঙতে বাধ্য হন কোচ খালিদ জামিল, তাদের যায়গায় দলে আসেন অভিজ্ঞ গুরুবিন্দর সিং এবং তরুন প্লেয়ার রিচার্ড কোস্তা! রেফারি উত্তম সরকার ম্যাচ শুরুর বাশি বাজালে ম্যাচ শুরু হতেই একটা জিনিস পরিস্কার হয়ে যায়, আজ ৩৮ বারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলকে আটকাতে কাস্টমস এর স্ট্রাটেজি বল উড়িয়ে ছন্নছাড়া ফুটবল। প্রথমার্ধে দুই দলই খেলে ছন্নছাড়া ফুটবল, বল আটকে থাকে মাঝমাঠেই। ইস্টবেঙ্গল এর আক্রমন প্রতিহত করতে ওই এক বল ক্লিয়ারের স্ট্রাটেজিই ব্যবহার করে কাস্টমস। আর ইস্টবেঙ্গল এর বিদেশি উইলস প্লাজা আগের মরশুম থেকে আগের ম্যাচ পর্যন্ত যেই অফ ফর্মে ছিলেন সেই ফর্মই তিনি এই ম্যাচেও ধরে রাখেন, তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হন ইস্টবেঙ্গল আক্রমনভাগে কোনওরকমের আক্রমন তৈরী করতে! আর মার্কিংয়ের জন্যেই প্রথম অর্ধে নিষ্প্রভ থাকেন আগের ম্যাচে হাট্রিক হিরো ভিপি সুহেরও, তবে আগেরদিনের মতো আজও নজড় কারেন সিরিয়ান আল আমনা! এইভাবেই দৃষ্টিকটু ফুটবলে কেটে যায় প্রথম ৪৫ মিনিট!

Also read ISL and I-league clubs compete in transfer battle as Indian football heats up!

এরপরে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতে ইস্টবেঙ্গল এর খেলায় একটা পরিবর্তন লক্ষ করা গেলেও কোনও পরিবর্তন হয়নি কাস্টমস এর স্ট্রাটেজিতে, তারা চালিয়ে যান বল উড়ানো এবং সময় নস্টের খেলা। তবে এতক্ষনের খেলায় স্পষ্ট ছিল ইস্টবেঙ্গল মিডিফিল্ডে রফিক এবং রক্ষনভাগে অধিনায়ক অর্নবের উপস্থিতি। এরপরে ইস্টবেঙ্গল আক্রমনের ঝাঁঝ বাড়াতে ৬৬ মিনিটে রিচার্ড কোস্তার যায়গায় চোটের কারনে গত মরশুমে রিসার্ভ বেঞ্চে বসে কাটানো কেভিন লোবো! তিনি নামতেই গোল করার জন্যে আরও মরিয়ে হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। ৭৪ মিনিট পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলকে আটকে রাখতে সক্ষম হলেও অবশেষে ৭৫ মিনিটে লোবোর ক্রসে মাথে ছুঁইয়ে ১-০ করে ইস্টবেঙ্গলকে প্রয়োজনীয় গোলটা এনে দেন মিচেল! এরপরে ৮৩ মিনিটে কোচ জামিল প্লাজাকে তুলে নিলে দর্শকরা ব্যাঙ্গাত্মক করতালিতে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান! এরপরে দুই দলই আর বেশি কিছু করার চেস্টা করেনি, অপেক্ষা করেছে শেষ বাশির! তবে এখানেই শেষ হয়নি ম্যাচের ঘটনাবলী অতিরিক্ত সময়ের ৩ মিনিটে সামাদ এর ক্রসে একটি দুর্দান্ত হেডারে ২-০ করে ইস্টবেঙ্গল এর মুখরক্ষা করেন সেই মিচেলই!

পরিকল্পনাহীন ফুটবল খেলে না হয় দুর্বল কাস্টমসের বাধা টপকানো যাবে কিন্তু পরের দিনদিন হারনো যাবে তো পিয়ারলেসের মতো দলকে? সমর্থকদের মতো চিন্তায় থাকবেন ইস্টবেঙ্গল কোচও!