বৃহস্পতিবার বারাসাত স্টেডিয়ামে কোলকাতা লীগের খেলায় বিশ্বজিত ভট্টাচার্য এর মোহামেডান স্পোর্টিং দুর্বল টালিগঞ্জকে ৫-১ গোলে হারিয়ে দিল! পড়ে নিন এই ম্যাচ রিপোর্ট…

বারাসাতের বিবেকানন্দ ক্রীড়াঙ্গনে আজ লড়াই ছিল প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করা টালিগঞ্জ অগ্রগামি বনাম খাতায় কলমে শক্তিশালী হয়েও অপ্রত্যাশিত ভাবে ৪-২ গোলে পাঠচক্রের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরে যাওয়া মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। তবে প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে দ্বিতীয় ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ৫-১ গোলে কার্যত উড়িয়ে দিল সাদা-কালো বাহিনী। এই জয়ে উজ্বল ভূমিকা রাখলেন ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে ২০১৬ কোলকাতা লীগ জয়ী খেলোয়াড় জিতেন মুর্মু, যিনি আগের কোলকাতা লীগে দুর্দান্ত পারফরমেন্স এর পরেও এবছর ব্রাত্য ইইস্টবেঙ্গল ক্লাবে।

আজকের ম্যাচ রেফারি নাসিরুদ্দিন বাঁশি বাজিয়ে ম্যাচ শুরু করতেই আক্রমনে ঝাঝ তোলে সাদা-কালো বাহিনী, ম্যাচ শুরুর ৭ মিনিটের মধ্যেই তীর্থঙ্করের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন শেখ ফৈজাজ। এরপরে গোল শোধের জন্যে মরিয়া হয়ে পড়ে টালিগঞ্জ। সাদা কালো অর্ধে জমে ওঠে টালিগঞ্জ স্ট্রাইকার আন্থনি উল্ফ বনাম মোহমেডান ডিফেন্ডার রিচার্ডের লড়াই, তবে প্রতিবারই শেষ হাসিটা রিচার্ডই হেসেছেন। তবে কিছুক্ষনের মধ্যেই কালুর নেতৃত্বে আক্রমনের চাপ বাড়ায় বিশ্বজিত ভট্টাচার্যের দল, কালুকে যোগ্য সঙ্গত দেন এরিক ডিপান্ডা। আর মাঝে মাঝে উঠে গিয়ে প্রতিপক্ষ বক্সে চাপ ভালই বাড়াচ্ছিলেন মোহামেডান এর বঙ্গ জুটি জিতেন-অঙ্কিত। উল্টোদিকে টালিগঞ্জ এর হয়ে প্রতি আক্রমনের দায়িত্ব তুলে নেন উল্ফ এবং আন্টনি সোরেন! যদিও কোনও দলই পারেনি খেলার ফলাফলে পরিবর্তন ঘটাতে, খেলায় মোট ছয়টি গোল হলেও তার ৫টিই এসেছে দ্বিতীয়ার্ধে, প্রথম অর্ধের শেষে খেলার ফলাফল দাঁড়ায় ১-০।

দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার ২ মিনিটে টলি গোলকিপার ঝন্টূ মন্ডল এর করা ভুল সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে খেলার ফলাফল ২-০ করেন এই মরশুমে ইস্টবেঙ্গলে ব্রাত্য জিতেন মুর্মু! এরপর ব্যবধান বাড়াতে আক্রমন ভাগে লোক বাড়ায় বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের দল, ফলস্বরুপ দ্বিতীয় গোলের ৭ মিনিটের মধ্যেই ৫৬ মিনিটে অধিনায়ক রানা ঘরামির ক্রস থেকে ফলাফল ৩-০ করেন দিব্যেন্দু দুয়ারী। এরপরে দুই দলই আর বেশি আক্রমনের রাস্তায় যায়নি, খেলা আটকে থাকে মাঝমাঠেই! এইসময় টালিগঞ্জ মাঝমাঠে নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেললেও শেষে মিস পাসে সব বলই জমা হয়ে যায় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের কাছে। এরপরে সেই ফৈজলেরেই দেওয়া পাস থেকে ৮৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের সাথে ফলাফল ৪-০ করেন জিতেন মুর্মু। এরপরে নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে ৮৭ মিনিটে টালিগঞ্জের হয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন বিজয় মান্ডি! তবে মোহামেডান ৫ গোল করার জন্যে আজ ছিল দৃড় প্রত্যয়িত, এর জন্যেই অতিরিক্ত সময়েও আক্রমনে এতটুকুও ঢিলেমি দেয়নি তারা। এই আক্রমনের ফলস্বরুপ অতিরিক্ত সময়ের ২ মিনিটে খেলার ফলাফল ৫-১ করেন মোহামেডান এর দেবাশিষ প্রধান! পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের জন্যে ম্যাচের প্রধান নির্বাচিত করা হয় জিতেন মুর্মুকে!